পুজোর আগেই চাকরি হারাচ্ছেন কয়েক হাজার শিক্ষক! বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থান কম্পিউটার শিক্ষকদের
পুজোর আগেই চাকরি হারাতে বসেছেন রাজ্যের সরকার ও সরকারপোষিত স্কুলের কম্পিউটার শিক্ষকদের একাংশের। তারই প্রতিবাদে সোমবার বিকাশ ভবন অভিযান করলেন তাঁরা। হাজারখানেক শিক্ষক বিকাশভবনের ঢোকার আগেই পুলিশ পথ আটকালে তাঁরা মাঝ রাস্তায় বসে পড়েন। দাবি, সরকারের তরফ থেকে তাঁদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। থালা বাজিয়ে ও রাস্তার শুয়ে পড়ে বিক্ষোভ শিক্ষকদের। পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকানোর চেষ্টা করলে ব্যারিকেড ফেলে এগনোর চেষ্টা করেন তাঁরা। পুলিশের তরফে জানানো হয়, ১০ জনের প্রতিনিধি দলকে বিকাশভবনে যেতে দেওয়া হবে।
জানা গিয়েছে, পাঁচ বছরের চুক্তিতে একাধিক বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে রাজ্যের তিন হাজারের বেশি কম্পিউটার শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছিল ২০২২ সালের আগে-পরে। সেই অনুযায়ী কারও চাকরির মেয়াদ উত্তীর্ণ হচ্ছে চলতি বছর, কারও ২০২৭-এর শুরুতে। কিন্তু সম্প্রতি ওই বেসরকারি সংস্থার তরফে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আগামী ৯ অক্টোবরের মধ্যে যাবতীয় নথি দায়বদ্ধ সংস্থার কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হিসাব বলছে, বাম আমল থেকেই চুক্তির ভিত্তিতে কম্পিউটার শিক্ষক নিয়োগ করা শুরু হয় সরকারি ও সরকারপোষিত স্কুলগুলিতে। পরবর্তী কালে তৃণমূল সরকার কয়েকটি পর্যায়ে চুক্তির ভিত্তিতে নিযুক্ত কম্পিউটার শিক্ষকদের ৬০ বছর পর্যন্ত কাজের সুযোগ করে দেয়। শিক্ষকদের দাবি, ২০২২ ও তার আগে পরে বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে ষষ্ঠ ও সপ্তম পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগ করা হয়। কিন্তু তাঁদের আর নিয়মিত করেনি সরকার।
শিক্ষকদের অভিযোগ, গত কয়েক মাসে তাঁদের বেতনও প্রায় হাজার টাকা কমিয়ে দিয়েছে সংস্থাগুলি। দাবি, সরকারি নিয়মে পরিবর্তন হওয়ার ফলে এই বেতনহ্রাস। এ বার বরখাস্তের চিঠিই পাঠানো হয়েছে। শিক্ষকদের দাবি, এতে তাঁদের পরিবার যেমন সমস্যায় পড়বে, তেমনই সমস্যায় পড়বেন স্কুল কর্তৃপক্ষও। কারণ, এখন বেশির ভাগ প্রকল্পের কাজই হয় ডিজিটাল মাধ্যমে।
মিছিল থেকেই এক শিক্ষিকা বলেন, ‘‘পুজোর আগে এ ভাবে চাকরি থেকে আমাদের বরখাস্ত করা হচ্ছে। এ কেমন বিচার? সরকারকে এর বিহিত করতেই হবে। আমরা স্কুলের পড়ুয়াদের যে ভাবে সাহায্য করে এলাম এখন এই প্রতিদান?’’ অন্য এক শিক্ষকের বক্তব্য, ‘‘পুজোর আগে অনেকে বোনাস পান। আমর আমরা চাকরি হারাচ্ছি।’’
এই ঘটনার ফলে বেকায়দায় পড়েছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষকেরাও। কারণ কেন্দ্রীয় সরকারের নানা প্রকল্পের সঙ্গে সংযুক্তির পর থেকে স্কুল স্তরের ডিজিটাল কাজের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। একের পর এক প্রকল্পে প্রধান ভরসা এই সব শিক্ষক। ফলে হঠাৎ তাঁদের কাজের মেয়াদ ফুরিয়ে গেলে সমস্যায় পড়বেন কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী এ দিন বলেন, ‘‘আইসিটি কম্পিউটার শিক্ষকদের বিক্ষোভ চলছে বিকাশ ভবনে। তাঁদের ছাঁটাই না করে আগের পাঁচটা ফেজে যে ভাবে ৬০ বছরের জন্য চুক্তির ভিত্তিতে নিয়মিতকরণ করা হয়েছে সেই মতো ষষ্ঠ ও সপ্তম ফেজের এই শিক্ষকদের কোম্পানির হাত থেকে সরকার দায়িত্ব নিক। এরা বিদ্যালয়ের অপরিহার্য অঙ্গ। কোনও ভাবেই এঁদের ছাঁটাই করা চলবে না।’’
সৌজন্যে ডিজিটাল আনন্দবাজার।

